কিতাব বিভাগ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

📚 জামিআতুস সুন্নাহ: কিতাব বিভাগ

বালক ও বালিকা শাখা: বিশুদ্ধ আকীদা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে যোগ্য আলেম গড়ার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান

 

 

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার এবং ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যুগোপযোগী ও বিশেষজ্ঞ আলেম তৈরী করাই আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিচালিত হচ্ছে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিভাগ জামিআতুস সুন্নাহ

 

জামিআতুস সুন্নাহর সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হলো দাওরায়ে হাদীস (কিতাব বিভাগ)। কওমী মাদ্রাসার মূল পাঠ্যপুস্তক ও ঐতিহ্যবাহী পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ ঠিক রেখে, সমকালীন ও সাধারণ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এক যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে।

 

  • বালক শাখা: ৯ বছর মেয়াদী পাঠ্যক্রম — যার উদ্দেশ্য আরবী ভাষা, হাদীস, ফিকহ, তাফসীর ও অন্যান্য ইসলামী জ্ঞানে পারদর্শী গবেষক আলেম ও যোগ্য শিক্ষক তৈরি করা।

 

  • বালিকা শাখা: ৮ বছর মেয়াদী পাঠ্যক্রম — যার উদ্দেশ্য আরবী ভাষায় দক্ষতাসহ ইসলামী জ্ঞানে অভিজ্ঞ, তাকওয়া, আখলাক, আদব ও সমাজ সচেতন আদর্শ মুসলিম নারী তৈরি করা।

 

পর্দা ও নিরাপত্তা: সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত পর্দা ও নিরাপত্তা সংরক্ষণের স্বার্থে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসরুম এবং আবাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পৃথক করা হয়েছে।

 

কিতাব বিভাগের কতিপয় অনন্য বৈশিষ্ট্য

  • 📖 সমন্বিত ও জীবনমুখী শিক্ষা: তরজামাতুল কুরআন, তাফসীর, হাদীস, উসূলুল হাদীস, ফিকহ, উসূলুল ফিকহ, সরফ, নাহউ, আকাঈদ, তারিখুল ইসলাম এবং ইলমুল আখলাকের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতসহ সকল জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ে পাঠদান।

 

  • 📖উচ্চশিক্ষিত ও তাখাসসুসপ্রাপ্ত শিক্ষকমণ্ডলী: আরবী বিষয়ের শিক্ষকগণের প্রায় সকলেই দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করার পর এক বা একাধিক বিষয়ে উচ্চতর ‘তাখাসসুস’ (বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী) লাভ করেছেন। সাধারণ বিষয়ের শিক্ষকগণও স্ব স্ব বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী।

 

  • 🗣️ ভাষাগত ও বক্তৃতা দক্ষতা: আরবী ভাষায় আন্তর্জাতিক মানের বিশুদ্ধ উচ্চারণে কথোপকথন প্রশিক্ষণ এবং সাপ্তাহিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা।

 

  • 📜 বোর্ড ও সরকারি পরীক্ষার সুযোগ: বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর অধীনে পরীক্ষার সুব্যবস্থা। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য জেডিসি (JDC) এবং দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ।

 

  • 🗺️ সিলেবাসের আন্তর্জাতিক সমন্বয়: ‘উসূলে ফিকহ’, ‘আদাব’ ও ‘নাহু’সহ বিভিন্ন শাস্ত্রে ঐতিহ্যবাহী দরসে নিযামী এবং বহির্বিশ্বের আধুনিক সিলেবাসের চমৎকার সমন্বয়।

 

  • 🌟 বৃত্তি ও সুযোগ-সুবিধা: প্রতিভাবান ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা এবং নিয়মিত শিক্ষাসফরের আয়োজন।

 

  • 🏡 উন্নত পরিবেশ ও লাইফস্টাইল: স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সুপরিকল্পিত পাঠ্যসূচী, কিঞ্চিত বিনোদন, আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন আবাসন ব্যবস্থা এবং উন্নত ও মানসম্মত খাদ্য পরিবেশন।

 

👥 আমাদের বর্তমান শিক্ষা পরিবার ও দায়িত্বশীলবৃন্দ

🏢 বিভাগীয় লিডারশিপ:

  • 👑 বিভাগীয় প্রধান: বিশিষ্ট আলেম শায়খ আবু জাফর (হাফিযাহুল্লাহ)।

 

  • 🤝 সার্বিক উপদেষ্টা ও সহযোগী: ফুরফুরার গদ্দীনশীন পীর, বিশিষ্ট আলেম শায়খ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল-কুরাইশী

 

  • 🌐 মিডিয়া ও গবেষণা ব্যক্তিত্ব: বিশিষ্ট আলেম, দায়ী ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ

 

📊 বর্তমান পরিসংখ্যান:

  • 👥 মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা: প্রায় ৩০০ জন (ক্রমান্বয়ে বর্ধনশীল)।

 

  • কিতাব বালক শাখা: ১৪০ জন।

 

  • কিতাব বালিকা শাখা: ১৮০ জন।

 

  • বিশেষ কেয়ার: বালক ও বালিকা উভয় শাখায় সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য ডেডিকেটেড খাদেমের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

🎒 ভর্তি প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতিমূলক শ্রেণী

  • ভর্তি ও ক্লাসের সময়সূচী: প্রতি বছর পবিত্র শাওয়াল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভর্তি কার্যক্রম চলে এবং তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়।

 

  • 🎯 ন্যূনতম যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতে সক্ষম হতে হবে এবং বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ন্যূনতম ৫ম শ্রেণীর মানের হতে হবে।

 

  • 📝 প্রস্তুতিমূলক বিশেষ শ্রেণী (ফাউন্ডেশন কোর্স): ৫ম শ্রেণী পাস করার পরও যারা বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতে দুর্বল, কিংবা হাফেয হয়েও সাধারণ বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত) পিছিয়ে—তাদের জন্য বালক ও বালিকা বিভাগে পৃথক ১ বছরের নিবিড় প্রস্তুতিমূলক বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সফলভাবে উত্তীর্ণরা সরাসরি ১ম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পায়।

 

🗂 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে আবেদনপত্রের সাথে জন্ম-সনদ, নাগরিক সনদ/প্রশংসাপত্র, শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের ভোটার আইডি কার্ডের কপি এবং ২ কপি সত্যায়িত ছবি জমা দিতে হবে। আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট অফিস থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে আবেদন ফরম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করা যাবে।

 

 

💳 ২০২৬-২৭ ঈ. শিক্ষাবর্ষের আর্থিক গাইডলাইন

 

📥 এককালীন ভর্তি ও সেশন ফিস (বালক ও বালিকা উভয় শাখা)

  • নতুন শিক্ষার্থী: ৩,৫০০ টাকা (ভর্তি/সেশন ফি: ২,৫০০/- + মেইনটেনেন্স ফি: ১,০০০/-)

 

  • পুরাতন শিক্ষার্থী (নবায়ন): ২,৫০০ টাকা (সেশন ফি: ১,৫০০/- + মেইনটেনেন্স ফি: ১,০০০/-)

 

💵 মাসিক খরচ কাঠামো: বালক শাখা (Boy’s Section)

  • ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী (অনাবাসিক): মাসিক বেতন ১,২০০ টাকা (খাবার খরচ প্রযোজ্য নয়)

 

  • ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী (আবাসিক): মাসিক মোট খরচ ৪,০০০ টাকা (বেতন: ১,৫০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • এদাদিয়া ও ১ম বর্ষ (মিজান): মাসিক মোট খরচ ৪,০০০ টাকা (বেতন: ১,৫০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ২য় বর্ষ (নাহবেমীর) ও ৩য় বর্ষ (হেদায়তুন্নাহু): মাসিক মোট খরচ ৩,৮০০ টাকা (বেতন: ১,৩০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ৪র্থ বর্ষ (কাফিয়া) থেকে ৭ম বর্ষ (জালালাইন): মাসিক মোট খরচ ৩,৫০০ টাকা (বেতন: ১,০০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ৮ম বর্ষ (মিশকাত) ও তাকমীল (দাওরায়ে হাদীস): মাসিক মোট খরচ ৩,৩০০ টাকা (বেতন: ৮০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

 

💵 মাসিক খরচ কাঠামো: বালিকা শাখা (Girl’s Section)

  • ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী (অনাবাসিক): মাসিক বেতন ১,২০০ টাকা (খাবার খরচ প্রযোজ্য নয়)

 

  • ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণী (আবাসিক): মাসিক মোট খরচ ৪,০০০ টাকা (বেতন: ১,৫০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • এদাদিয়া ও ১ম বর্ষ (মিজান): মাসিক মোট খরচ ৪,০০০ টাকা (বেতন: ১,৫০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ২য় বর্ষ (নাহবেমীর) ও ৩য় বর্ষ (হেদায়তুন্নাহু): মাসিক মোট খরচ ৩,৮০০ টাকা (বেতন: ১,৩০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ৪র্থ বর্ষ (কাফিয়া) ও ৫মর্য (শরহে জামি): মাসিক মোট খরচ ৩,৫০০ টাকা (বেতন: ১,০০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

  • ৬ষ্ঠ বর্ষ (শরহে বেকায়া) ও ৭ম বর্ষ (জালালাইন): মাসিক মোট খরচ ৩,৮০০ টাকা (বেতন: ৮০০/- + খাবার: ২,৫০০/-)

 

📌 আর্থিক নীতিমালা: সকল প্রকার ফি প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় রয়েছে এবং এতিম শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বহন করে

 

 

🏆 শিক্ষাবর্ষ, পরীক্ষা ও ছুটির নীতিমালা

  • 🌙 আরবী বর্ষ অনুসরণ: ইসলামী ঐতিহ্য বজায় রেখে জামিআতুস সুন্নাহ-এর শিক্ষা কার্যক্রমে আরবী চান্দ্র বর্ষ অনুসরণ করা হয়। শাওয়াল মাসে পড়াশোনা শুরু হয়ে শাবান মাসে শেষ হয়। পবিত্র রামাদান মাসে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তারবিয়াতী কার্যক্রম থাকে।

 

  • 📊 পরীক্ষা ও পাস মার্ক: পুরো শিক্ষাবর্ষকে ৩টি পর্বে বিভক্ত করে মোট ৬টি মূল্যায়ন পরীক্ষা (৩টি মাসিক, ২টি পার্বিক এবং ১টি বার্ষিক) নেওয়া হয়। পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৪৫% নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক।

 

  • 🌴 ছুটির নিয়মাবলী: পবিত্র ঈদুল আযহায় ১০-১২ দিন, ২টি পার্বিক পরীক্ষার পর ৫-৭ দিন এবং প্রতি মাসে ১ দিন নিয়মিত ছুটি থাকে। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নির্ধারিত ছুটির বাইরে কোনো ছুটি দেওয়া হয় না এবং এটি সম্পূর্ণ বিভাগীয় প্রধানের বিবেচনাধীন।

 

🏡 আবাসিক নীতিমালা

কিতাব বিভাগের শৃঙ্খলা এবং নিবিড় পড়াশোনার স্বার্থে সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আবাসিক থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র এবং ব্যক্তিগত পোশাকাদি নিজেদের সাথে নিয়ে আসতে হবে।

 

উচ্চতর ইসলামিক শিক্ষায় আপনার সন্তানের নিরাপদ ও আদর্শ ক্যাম্পাস

জামিআতুস সুন্নাহর দ্বীনি পরিবেশে আপনার সন্তানকে একজন যোগ্য আলেম ও গবেষক হিসেবে গড়ে তুলুন।

 

📞 ০১৪০২৯০০৬০০

 

📍 আস-সুন্নাহ কমপ্লেক্স, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, ঝিনাইদহ

এই পেজটি শেয়ার করুন