বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আল-ফিকহ ও আল-আকিদা বিভাগ
আরবী জানা ছাত্রদের আকিদা, আমল ও গবেষণায় অনন্য করে তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের “আল-ফিকহ ও আল-আকিদা” বিভাগ। প্রফেসর ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ জীবিত থাকাকালীন এ বিভাগটি শুরু করার জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তিনি সেটা করে যেতে পারেননি। তিনি এ বিভাগের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া হাফিযাহুল্লাহকে এ বিষয়ে তার আগ্রহ ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন; পরবর্তীতে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শাইখ উসামা খোন্দকার এর ঐকান্তিক আগ্রহে এ বিভাগটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে দীনী খিদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে।
আকিদাহ ও ফিকহ এর গুরুত্ব:
- আকিদা শিক্ষা করার গুরুত্বআকিদার গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে এর গুরুত্ব বহনকারী কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো-
১। আকিদা বিশুদ্ধ হওয়ার অর্থই হচ্ছে তাওহীদ বিশুদ্ধ হওয়া। বস্তুত এটির সত্যায়ন এবং বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মানুষ ও জিন্নকে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ
‘আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন্ন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমার ইবাদাত করবে।’ (৫১:৫৬)
২। সঠিক আকিদাহর দাওয়াতের জন্যেই সকল রাসূলগণকে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلاَّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلاَّ أَنَا فَاعْبُدُونِ
আর আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর। (২১:২৫)
৩। আকিদা বিশুদ্ধ হওয়ার ওপর বান্দার আমল কবুল হওয়া উপর নির্ভর করে, আকিদায় মৌলিক কোনো প্রকার ভুল কখনো কখনো আমলকে ধ্বংস করে দিতে পারে, আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না। (৪৭:৩৩)
৪। আকিদাহ ও তাওহীদ বিশুদ্ধ হওয়ার উপর আখিরাতের স্থায়ী নাজাত এবং সঠিক ফলাফল নির্ভর করে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إن الله حرّم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله
নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জাহান্নামের আগুনকে হারাম করেছেন, যে ব্যক্তি বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং এর দ্বারা শুধু আল্লাহর চেহারাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। (বুখারী, অধ্যায় সালাত, অনুচ্ছেদ, গৃহে মসজিদ, ক্রম ৪১৫)
৫। আকিদাহ বিশুদ্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে সৃষ্টি ও স্রষ্টার মধ্যকার সম্পর্ক। আকিদা বিশুদ্ধ না হলে আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞই থেকে যায়। ফলে সে ইবাদাতের স্বাদ পাবে না। আল্লাহ হক্ব আদায় করতে সক্ষম হবে না। আর আল্লাহর হক্ব যারা যথাযথ আদায় করতে পারবে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা শাস্তি না দেয়ার ঘোষণা প্রদান করেছেন।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ -رَضِيَ اَللَّهُ عَنْهُ —قَالَ :كُنْتُ رَدِيفَ اَلنَّبِيِّ صَلَّى اَللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حِمَارٍ فَقَالَ لِي يَا مُعَاذُ؟ أَتَدْرِي مَا حَقُّ اَللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ، وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اَللَّهِ؟ قُلْتُ اَللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ حَقُّ اَللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ، وَلا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اَللَّهِ أَنْ لا يُعَذِّبَ مَنْ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، قُلْتُ يَا رَسُولَ اَللَّهِ أَفَلا أُبَشِّرُ اَلنَّاسَ؟ قَالَ لا تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا
মু‘আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী ﷺ এর পিছনে একটি গাধার উপর সওয়ার ছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে মু‘আয, তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? আর আল্লাহর উপর বান্দার হক কী? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সবচাইতে ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে এই যে সে শুধু আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো প্রকার শরীক স্থাপন করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হচ্ছে এই যে তিনি আযাব দেবেন না তাকে, যে তাঁর সাথে কোনো প্রকার শরীক স্থাপন করে না। আমি বললাম, আমি কি লোকেদের এই সুসংবাদ পৌঁছে দিব না? তিনি বললেন, তাদেরকে এই সুসংবাদ দিও না, কারণ হতে পরে তারা এর উপরেই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।” (বুখারী ৬২৬৭, ২৮৫৬; মুসলিম ৩০)
৬। বিশুদ্ধ আকিদার জ্ঞানের মাধ্যমেই আল্লাহ তা‘আলা এ দুনিয়াতে সত্যিকারের আনন্দ ও সুখ প্রদান করেন। তাই বান্দা কর্তৃক তার রব্ব আল্লাহর ব্যাপারে জানতে চাওয়া সকল চাওয়ার উর্ধ্বে। সুতরাং কোনো প্রকার শান্তি সে পেতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার রবকে জানবে তাঁর রুবুবিয়্যাতের মাধ্যমে, উলুহিয়্যাতের মাধ্যমে, তাঁর নাম ও গুণাবলী মাধ্যমে।
৭। মানব মনে যত প্রকার প্রশ্নের উদ্রেক হয়, যা বান্দার অন্তরে ঘুরপাক খায়, যেমন, সৃষ্টিকর্তার গুণ, সৃষ্টি জগতের সূচনা, এর শেষ, এর উদ্দেশ্য, সৃষ্টি সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়, সৃষ্টির একের সাথে অন্যের সম্পর্ক এবং তাদের তাকদীর পূর্বনির্ধারণের বিষয়, এসবের প্রকৃত উত্তর কেবল বিশুদ্ধ আকিদা শিক্ষা করার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে।
৮। আকিদার বিষয়াদি ব্যাখ্যা করা, সত্যায়ন করা, বিস্তারিত তুলে ধরা ও এর প্রতি দাওয়াত দেবার মাধ্যমে আল কুরআন এবং আস সুন্নাহকে অন্তরে বপন করা সম্ভব হয়।
৯। সঠিক আকিদাই দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের কারণ। সুতরাং যারা একে আঁকড়ে ধরে থাকবে তারাই হবে বিজয়ী গোষ্ঠী, নাজাতপ্রাপ্ত সম্প্রদায় এবং সাহায্যপ্রাপ্ত শ্রেণি; সুতরাং প্রতিটি মানুষের কর্তব্য হবে বিশুদ্ধ আকিদা ধারণ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك
আমার উম্মত হতে সবসময় একটি গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত থাকবে হকের উপর। তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না তাদের পরিত্যাগকারীরা যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ আসে। আর তারা সর্বদা এরূপই থাকবে। (মুসলিম অধ্যায় কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: তাঁর বক্তব্য আমার উম্মত হতে সবসময় একটি গোষ্ঠী থাকবে হকের উপর। তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না তাদের বিরোধিতাকারীরা, ক্রম ১৯২০)
১০। মুসলিমদের মাঝে ঐক্য হবে বিশুদ্ধ আকিদার মানদণ্ডে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে সাহাবী, তাবেয়ী এবং প্রসিদ্ধ চার ইমাম, মুহাদ্দিসগণ, ও যুগে যুগে হকপন্থী আলেমগণ লালন করতেন। আর সেটার ওপরই সকলকে তৈরী করা অপরিহার্য।
- ফিকহ শিক্ষা করার গুরুত্ব:
১। ফিকহ যারা শিক্ষা গ্রহণ করে তারা দীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করে। আল্লাহ বলেন,
وَمَا كَانَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةً ۚ فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍۢ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِى ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوٓاْ إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ —
আর মুমিনদের সকলের একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের এক অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়কে ভীতিপ্রদর্শন করতে পারে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে, যাতে তারা সতর্ক হয়। (সূরাঃ আত—তাওবা ১২২)
২। ফিকহ যারা শিক্ষা করে তারাই দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে। দীনী কোনো সমস্যা সমাধানে তাদের কাছে যেতেই আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
وَ لَوۡ رَدُّوۡهُ اِلَی الرَّسُوۡلِ وَ اِلٰۤی اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡهُمۡ لَعَلِمَهُ الَّذِیۡنَ یَسۡتَنۡۢبِطُوۡنَهٗ مِنۡهُمۡ
যদি তারা তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাদের মধ্যে যারা নির্দেশ প্রদানের অধিকারী তাদেরকে জানাত, তবে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে তারা সেটার যথার্থতা নির্ণয় করতে পারত।
৩। ফিকহ এর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভে ধন্য হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে তিনি দীনের ফিকহ প্রদান করেন। (বুখারী: ৭১; মুসলিম: ১০৩৭)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ؛ كُلُّ مَنْ أَرَادَ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا لَا بُدَّ أَنْ يُفَقِّهَهُ فِي الدِّينِ ، فَمَنْ لَمْ يُفَقِّهْهُ فِي الدِّين ِ، لَمْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا، وَالدِّينُ : مَا بَعَثَ اللَّهُ بِهِ رَسُولَهُ
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন; আল্লাহ তা‘আলা যার জন্য কল্যাণ ইচ্ছা করেন তাকে অবশ্যই দীনের ফিকহ দান করেন। সুতরাং যাকে দ্বীনের ফিকহ দেওয়া হয় না তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা কল্যাণ ইচ্ছা করেন না। আর দীন হলো; আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু তার রাসূলের নিকট প্রেরণ করেছেন। (মাজমু‘ ফাতাওয়া ২৮/৮০)
৪। ফিকহের জ্ঞান অর্জনকারীরা এমন যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন যে তারা সর্বদা সম্মানিত বলে বিবেচিত হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
تَجِدُوْنَ النَّاسَ مَعَادِنَ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقِهُوْا وَتَجِدُوْنَ خَيْرَ النَّاسِ فِيْ هَذَا الشَّأْنِ أَشَدَّهُمْ لَهُ كَرَاهِيَةً
“তোমরা মানুষদেরকে খনির মত পাবে। আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের উত্তম ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণের পরও তারা উত্তম। যখন তারা দীনী জ্ঞান অর্জন করে আর তোমরা শাসন ও কর্তৃত্বের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তিকে পাবে যে এই ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক অনাসক্ত। (বুখারী, ৩৪৯৩)
৫। ফিকহ এর জ্ঞান লাভের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় লোকদের দো‘আ করেছিলেন। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য দো‘আ করেছিলেন;
اللهم فقهه في الدينِ، وعلِّمْهُ التأويلَ
হে আল্লাহ! আপনি তাকে দীনের প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে তাফসিরের অগাধ জ্ঞান দান করুন। (বুখারী ২৪৭৭ ও মুসলিম ১৪৩)
৬। সাহাবায়ে কিরাম ফিকহের ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন। যেমন,
- আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا— أما إني لا أقول حلق القصاص ولكن حلق الفقه الفقيه والمتفقه
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহ আনহু বলেন; যখন তোমরা জান্নাতের বাগানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে তখন তা উপভোগ কর, আমি গল্পের মজলিসের কথা বলছি না বরং ফিকহ চর্চার মজলিসের ব্যাপারে বলছি। (কিতাবুল ফাকীহি ওয়াল মুতাফাককিহি পৃ: ১২)
- আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,لأن أعلم بابا من العلم في أمر ونهي، أحب إلي من سبعين غزوة في سبيل الله عز وجل الفقيه والمتفقه
আমি অবশ্যই ইলমের মধ্যে আদেশ এবং নিষেধ সম্পর্কে একটি দরজা জানি (এখানে ইলমে ফিকহকে বুঝিয়েছেন), যা আমার কাছে আল্লাহর রাস্তায় সত্তর বার জিহাদ করার থেকে বেশি প্রিয়। (কিতাবুল ফাকীহি ওয়াল মুতাফাককিহি পৃ: ১৩)
মোটকথা: আকীদা ও ফিকহ হচ্ছে দীন। ইসলামের এ দু’টি অংশ যতক্ষণ কেউ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম না হবে ততক্ষণ তিনি আলেম বলে বিবেচিত হবে না। সুতরাং আকীদা ও ফিকহের জ্ঞান অর্জন করার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদেরকে বিশুদ্ধ আকীদা ও ফিকহের জ্ঞানে ধন্য করুন। আমীন।
- আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন,إذا مررتم برياض الجنة فارتعوا— أما إني لا أقول حلق القصاص ولكن حلق الفقه الفقيه والمتفقه
শিক্ষা পদ্ধতি ও ভর্তি বিষয়ক তথ্যাবলি:
- দুই বছর মেয়াদী ইসলামী আকিদাহ এবং ফিকহ বিভাগের শিক্ষাবর্ষ: “শাওয়াল—শা‘বান” আরবী মাস। যার ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় শাওয়ালের ৮ তারিখ, শেষ হয় ১৫ই শা‘বান। ১৬ ই শা‘বান থেকে শিক্ষা—কার্যক্রম শুরু হয়।
- এ বিভাগের দরসের প্রতিটি কিতাবই আরবী, এজন্য ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আরবী পড়ে তা বুঝার মত ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে।
- বাছাইকৃত শিক্ষার্থীকে ভর্তির ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্র ফরম বাবদ ২০/=, ভর্তি ফিস ১৫০০/=, তথ্য বই ২০০/= (এক কালীন) জমা দিতে হবে।
- খোরাকী বাবদ প্রতি মাসে ২০০০/= বহন করতে হবে।
- নিয়মিত রুটিনের আওতায় তারা সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত, বন্দেগী, খাওয়া, ঘুম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও লেখাপড়ার পাশাপাশি কুরআন, হাদীসসহ ইসলামী আকিদাহ এবং ফিকহ বিষয়ে বিশেষ কোর্স ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।
- সফলভাবে উত্তীর্ণদের জন্য সার্টিফিকেট ও বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
- যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী গবেষণা চালানোর জন্য সুযোগ ও সহায়তা দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা:
- প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া অধ্যাপক, আল ফিকহ্ এ্যান্ড লিগ্যাল স্ট্যাডিজ, ইবি, কুষ্টিয়া। পিএইচ.ডি. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা আল-মুনাওয়ারাহ, সৌদি আরব।
শিক্ষকমণ্ডলী:
- শাইখ সাঈদুর রহমান (আল-হাদিস) অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচ.ডি. গবেষক, ইবি কুষ্টিয়া। (ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহ. এর হাতে গড়া ছাত্র)।
- শাইখ খালিদ আব্দুল্লাহ (আকিদা) লিসান্স, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা আল-মুনাওয়ারাহ, সৌদি আরব। মাস্টার্স ইবি, কুষ্টিয়া।
যে সব কিতাব পড়ানো হয়
الكتب المقررة
العقيدة (درسا):
١. الفقه الأكبر
٢. العقيدة الطحاوية
٣. العقيدة الواسطية
٤. تاريخ العقيدة الإسلامية
٥. شرح المنظومة الحائيـــة للإمام ابن أبي داود.
٦. شرح كشف الشبهات
٧. كتاب التوحيد
٨. القواعد المثلى في أسماء الله الحسنى وصفاته العُل
٩. الفتوى الحموية الكبرى
١٠. شرح أصول الثلاثة والقواعد الأربعة
الفقه وأصوله (درسا):
١. متن الهداية
٢. متن كنز الدقائق
٣. عمدة الأحكام
٤. بداية المجتهد و نهاية المقتصد
٥. الإنصاف في بيان أسباب الاختلاف
٦. الفقه الميسر للندوي
٧. تيسير أصول الفقه
٨. الواضح في أصول الفقه
٩. فقه السنن والآثار
١٠. عمدة الرعاية في حل شرح الوقاية
ব্যক্তিগত অধ্যয়ন:
১. উসূলুল ঈমান
২. ইসলামী আকিদা
৩. আল ফিকহুল আকবর বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা
৪. রহমান আরশের উপর উঠেছেন
৫. আল ফাতাওয়া আল হামাউইয়্যাহ আল কুবরা
৬. জিজ্ঞাসা ও জবাব
৭. এহইয়াউস সুনান
৮. ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ
৯. সহীহ হাদীস বিশ্বকোষ (ভূমিকা)
১০. বিভিন্ন ফিকহের তুলনামূলক পর্যালোচনা
১১. হাদীসের নামে জালিয়াতী
১২. উমদাতুল আহকাম
১৩. আকিদার চারটি মৌলিক পরিভাষা
১৪. এটা সালাফগণের মানহাজ নয়
১৫. অবশেষে সত্যের সন্ধান পেলাম
১৬. আশ‘আরীরা কি আহলুস সুন্নাহ?
১৭. বুস্তানুল মুহাদ্দেসীন।
১৮. লুম‘আতুল ই‘তিক্বাদ এর ব্যাখ্যা।
১৯. ইসলামী ফিকহ।
সার্বিক যোগাযোগ:
১. শাইখ উসামা খোন্দকার। চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, ঝিনাইদহ।
২. আব্দুর রহমান সালাফী। সেক্রেটারী, আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট, ঝিনাইদহ।
দেশের অভ্যন্তর থেকে, ০১৭১৮১৩৬৯৬২। বহিঃবিশ্ব থেকে, ০০৮৮০১৭১৮১৩৬৯৬২